ক্ষতিটা দেশী ফুটবলারদেরই

মে ১৯ ২০২০, ১৬:৪৮

অসময়ে পরিত্যক্ত ২০১৯-২০ ফুটবল মওসুম। এতে ক্লাবদের লাভ হলেও বাফুফের এই সিদ্ধান্তে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে দেশী ফুটবলারদের। একেতো তাদের সামনে আপাতত কোনো খেলা নেই। সেই সাথে সে সব ফুটবলার যারা চুক্তির ৩০/৪০ শতাংশের বেশী টাকা পায়নি ক্লাব থেকে। এই টাকা তারা আদৌ পাবে কিনা সন্দেহ। আবার নতুন মওসুমে পুরোনা চুক্তি অনুযায়ী খেলোয়াড়রা থাকবেন না কি নতুন চুক্তিতে, সেটার ফয়সালা হয়নি। এই নিয়েই হতাশ এবং অসন্তুষ্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়ড়ারা।

জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার বক্তব্য, বাফুফের এই সিদ্ধান্তে কেউ খুশী, আবার কেউ হতাশ। তবে বাফুফে যা ভালো মনে করেছে সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে। আমাকে বাফুফের সিদ্ধান্তে সম্মান করতেই হবে।

ঢাকা আবাহনীর ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সালের মতে, করোনায় হাজার হাজার লোক মারা যাওয়া দেশে লিগ পুনরায় শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। জার্মানীতে খেলা মাঠে গড়িয়েছে। স্পেনে ক্লাবগুলো অনুশীলনে নেমেছে। সেখানে বাফুফের উচিত ছিল আরো কিছু দিন সময় নিয়ে ঈদের পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া।

তিনি যোগ করেন, আসলে ফুটবলারদের স্বার্থ কেউই দেখেনি। সেই আগের মতোই ক্লাবের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।’ তার প্রশ্ন, কিছু ক্লাব তাদের ফুটবরারদের ৮০/৯০ ভাগ টাকা দিয়েছে। কিন্তু যে সব ক্লাব মাত্র ৩০/৪০ টাকা দিয়েছে ফুটবলারদের, এই খেলোয়াড়াদের বাকী টাকা কি দেয়া হবে। এই লেফট ব্যাক বলেন, বাফুফের উচিত ছিল এই পরিস্থিতিতে লোকাল ফুটবলারদের নিয়ে লিগটি শেষ করা। এতে স্থানীয় খেলোয়াড় এবং জাতীয় দল উভয়েরই উপকার হতো।

তিনি আরো জানান, করোনা থেকে মুক্তির একটি উপায় নিয়মিত ব্যায়াম করা। তাই ফুটবল মাঠে থাকলে খেলোয়াড়দের এ থেকে রক্ষা পাওয়ার ভালো মাধ্যম পেত।

বসুন্ধরা কিংসের জাতীয় দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মনের বক্তব্য, এখন আমাদের সামনে কোনো খেলা নেই। এতে ফুটবলাদের পারফরম্যান্স নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমিও মনে করি বাফুফে স্থানীয়দের নিয়ে দুটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করে তাদের খেলার মধ্যে রাখতে পারতো। তা দর্শকবিহীন মাঠেই হতো। আমাদেরতো এমনিই দর্শক হয় না।

মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদ বললেন, ফুটবলই আমাদের রুটি রুজি। এখন লিগ বন্ধ হওয়ায় যে ক্লাব থেকে ফুটবলাররা চুক্তির অর্ধেক টাকাও পায়নি সে টাকা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা রয়েই গেল। যা তাদের মন মানসিকতা এবং পারফরম্যান্সের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনি মনে করেন, ‘এখন খেলাধূলা না থাকায় ফুটবলারদের ফিটনেস বলতে আর কিছুই থাকবে না।

Share