টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে দিলেন সাকিব

দ্বাদশ বিশ্বকাপে ব্যাট-বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ৮ ইনিংস ব্যাট করে ২টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৬০৬ রান করেন তিনি। বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। ৩৯৯ রান খরচ করে ১১ উইকেট শিকার করেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

ফলে বিশ্বকাপ মঞ্চে অনেক রেকর্ডের মালিক হলেন সাকিব। ভেঙ্গেছেন ভারতের মাস্টার ব্লাস্টার ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড। বিশ্বকাপের গ্রুপ বা লিগ পর্বে ম্যাচে টেন্ডুলকারের ৫৮৬ রানের রেকর্ড ভেঙ্গে ৮ ম্যাচে ৬০৬ রান করেন বাংলাদেশের সাকিব। ২০০৩ সালে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৫৮৬ রান করেছিলেন টেন্ডুলকার। এবার সেই রেকর্ড ভেঙ্গে ফেললেন সাকিব।

এছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে অন্তত ৫০ রানের বেশি ৭টি ইনিংসে করেছেন সাকিব। এক্ষেত্রে টেন্ডুলকারের পাশে বসলেন তিনি। ২০০৩ বিশ্বকাপে অন্তত ৫০ রানের বেশি ৭টি ইনিংসে খেলেছিলেন টেন্ডুলকার।

টেন্ডুলকারের পর শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারাকেও স্পর্শ করেছেন সাকিব। বিশ্বকাপের মঞ্চে সাঙ্গার মত ১২টি ৫০ রানের বেশি ইনিংস আছে সাকিবের।

এছাড়া প্রথম অলরাউন্ডার হিসেবে এক বিশ্বকাপে ৬০০-র বেশি রান ও ১১টি উইকেট নেয়ার রেকর্ডও গড়লেন সাকিব।

তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ৬শ’ রান সাকিবের
তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এক আসরে ছয়শত রান করার কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ৮ ইনিংস ব্যাট করে ২টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৬০৬ রান করেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে সাকিবের আগে এক আসরে ছয়শত রান করেছেন মাত্র দু’জন। তারা হলেন- ভারতের শচীন টেন্ডুলকার ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন।

২০০৩ বিশ্বকাপে টেন্ডুলকার ১১ ইনিংসে ৬৭৩ রান করেন। ১টি সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফ-সেঞ্চুরি ছিলো তার ব্যাটে। ২০০৭ আসরে বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে ৬শত রান করেন হেইডেন। ১০ ইনিংসে ৩টি সেঞ্চুরি ও ১টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৬৫৯ রান করেন হেইডেন।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী তালিকার শীর্ষ দশে সাকিব
সেমিফাইনালের আশা নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। তবে অসাধারন পারফরমেন্স দিয়ে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপটি স্মরণীয় করে রেখেছেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন সাকিব। ব্যাট-বল উভয় বিভাগেই উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। গড়েছেন বেশ কিছু রেকর্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী তালিকার শীর্ষ দশ-এ শচিন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং এবং ব্রায়ান লারার মত কিংবদন্তী ক্রিকেটারদের পাশে নাম লিখিয়েছেন এ বাংলাদেশ তারকা।

শুক্রবার লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৭ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেছেন সাকিব। এ ইনিংস শেষে এবারের বিশ্বকাপে আট ম্যাচে তার মোট রান ৬০৬। আর সব মিলিয়ে ১১৪৬ রানের মালিক সাকিব টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংগ্রহকারী শীর্ষ দশ-এ নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

একই সঙ্গে ভারতের রোহিত শর্মাকে হটিয়ে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরারও সাকিব। সেমিফাইনাল খেলা ভারতের রোহিত শর্মা সাত ম্যাচে ৫৪৪ রান নিয়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে।

শীর্ষ দশ- অভিযাত ক্লাবের সদস্য হতে পাকিস্তান ম্যাচের আগে সাকিবের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৯ রান। শ্রীলংকান দুই কিংবদন্তীয় মাহেলা জয়াবর্ধনে ও তিলকরত্নে দিলশানকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

ইতোপুর্বে ২১ম্যাচে মাত্র পাঁচ হাফ সেঞ্চুরিতে ৫৪০ রান নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেন সাকিব।
এখন ২৯ ম্যাচে ৪৫.৮৪ তার মোট রান ১১৪৬। একই সাথে তার নামের পাশে রয়েছে দুইটি সেঞ্চুরি ও দশটি হাফ সেঞ্চুরি। অর্থাৎ এ বারের বিশ্বকাপে তিনি দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের মালিক শচিন টেন্ডুলকার। ৪৫ ম্যাচে ৫৬.৯৫ গড়ে তার মোট রান ২২৭৮। বিশ্ব রেকর্ড ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে টেন্ডুলকারের আছে ছয়টি সেঞ্চুরি ও ১৫ হাফ সেঞ্চুরি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর কোন ব্যাটসম্যান দুই হাজারের বেশি রান করতে পারেননি।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের মোট রান ১৭৪৩। ৪৬ ম্যাচে পাঁচ সেঞ্চুরি ও ছয় হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৫.৮৬ গড়ে তিনি এ রান করেন।

তালিকার তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে আছেন যথাক্রমে কুমার সাঙ্গাকারা, ব্রায়ান লারা এবং ডি ভিলিয়ার্স।

পাঁচ সেঞ্চুরি ও সাত হাফ সেঞ্চুরিতে ৫৬.৭৪ গড়ে বিশ্বকাপে সাঙ্গার মোট রান ১৫৩২।

বিশ্বকাপে লারা করেছেন ১২২৫ রান। দুই সেঞ্চুরি ও সাত হাফ সেঞ্চুরিতে তার গড় রান ৪২.২৪। দক্ষিণ আফ্রিকার ডি ভিলিয়ার্স বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ খেলেছেন ২৩টি। চার সেঞ্চুরি ও ছয় হাফ সেঞ্চুরিতে ৬৩.৫২ গড়ে তার মোট রান ১২০৭।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী দশ ব্যাটসম্যান:নাম দেশ ম্যাচ রান-

                              ম্যাচ – রান
শচিন টেন্ডুলকার ভারত ৪৫-২২৭৮
রিকি পন্টিং অস্ট্রেলিয়া ৪৬-১৭৪৩
কুমার সাঙ্গাকারা শ্রীলংকা ৩৭-১৫৩২
ব্রায়ান লারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪-১২২৫
এবি ডি ভিলিয়ার্স দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩-১২০৭
ক্রিস গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫-১১৮৬
সনথ জয়সুরিয়া শ্রীলংকা ৩৮-১১৬৫
জক ক্যালিস দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৬-১১৪৮
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ ২৯-১১৪৬
তিলকরত্নে দিলশান শ্রীলংকা ২৭-১১১২