ভাঙা সাইকেল ও পুরাতন সুটকেস নিয়ে ময়মনসিংহে এসে ৩০০শ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া কে এই ইদ্রিস খান!

স্টাফ রিপোর্টারঃ জন্মসূত্রে পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ উপজেলার প্রধানাবাদ বাসিন্দা হাফেজ ইউনুস খানের পুত্র।ময়মনসিংহের ত্রিশালের বর্তমান এমপি হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীর বাড়িতে লোজিং থেকে বাগান ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। এরপর রুহুল আমিন মাদানীর দুঃসম্পর্কের ভাতিজিকে বিয়ে করেন তিনি । রুহুল আমিন মাদানীর মাধ্যমেই ১৯৯৪ সালে মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসাবে চাকুরি পান। সে সময় মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ ছিলেন, মাওলানা রুকনুজ্জামান। কিছুদিনের মধ্যেই ইদ্রিস খান ষড়যন্ত্র শুরু করেন রুকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে একের পর এক দিতে থাকেন মামলা। সকল মামলাই ছিল মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক। সেই মামলার আসামি থেকে বাদ পড়েননি অধ্যক্ষের পরিবারের সদস্যরাও। এসব মামলা থেকে রেহাই পেতে রুকনুজ্জামান বাধ্য হয়ে সরে পড়েন মাদ্রাসা থেকে। এভাবেই অধ্যক্ষের পদটি বাগিয়ে নেন ইদ্রস খান । মাদ্রাসা সূত্রে এবং স্থানীয়রা জানান, তিনি পড়াশোনা করতে কোন কালেই বিদেশে যাননি । অথচ তিনি নিজেকে বিদেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে প্রচার করেন এবং নামের আগে ডক্টরেট উপাধি দেন ।

অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে ইদ্রিস খান মাদ্রাসায় নিজের আত্মীয়- স্বজনদের নিয়োগ করেন। যাদের বেশিরভাগই অযোগ্য। তন্মধ্যে ইদ্রিস খানের মামা আব্দুল ওয়াহাব খান উল্লেখযোগ্য। এক পর্যায়ে এই মাদ্রাসাটির একক ক্ষমতার অধিকারী বনে যান ইদ্রিস খান। মাদ্রাসার সম্পদ অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎসহ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আজ তিনি কোটিপতি।
প্রাচীন শহর ময়মনসিংহ। এই শহরে হাঠাৎ করেই বিদেশী এক ইদ্রিস খানের বিত্তবান বনে যাওয়া লোকচক্ষুতে নজড়ে পড়ে । সমালোচনার এক পর্যায়ে মাত্রা যোগ করেন সাংবাদিকরাও। ইদ্রিস খানের নানা অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ করতে থাকেন সাংবাদিকগণ ।
ধূর্ত ইদ্রিস খান সুকৌশলে নিজেকে রক্ষায় শীর্ষ কয়েক সাংবাদিকের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন । এসময় ইদ্রিস খান ময়মনসিংহ প্রতিদিন নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সম্মানী ব্যক্তিদের নামে কুরুচিপূর্ণ নিউজ করে তাদের নামে অপ্রচার চালায় এবং ব্ল্যাকমেইলিং করে টাকা হাতিয়ে নেয়। তার টার্গেট হতে বাদ পড়েনি, স্বনামধন্য ময়ময়নসিংহের স্বদেশ হাসপাতাল, সাংবাদিক রফিক, মানবাধিকার কর্মী আব্দুল কাইয়ূমসহ অনেকেই।

প্রাপ্ত তথ্য ও সার্ভার রেকর্ড সুত্রে জানাযায়, ইদ্রিস খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল হলে দুদক প্রধান কার্যালয় ও দুদক ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সমন্বয় কার্যালয় ইদ্রিস খানের সম্পদের খোঁজ নেয়া শুরু করে। তারই আলোকে গত বছরের নভেম্বর মাসে দুদক স্বপ্রণোদিত হয়ে ইদ্রিস খানের জন্মস্থান পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রারকে ইদ্রিস খানের সম্পত্তির হিসাব চেয়ে একটি চিঠি ইস্যু করে। কিন্তু ইদ্রিস খান এ সংবাদ পেয়ে আগেই দেবীগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রারকে তার অনুগত করে নেয়। তার মোট সম্পত্তি রয়েছে দেবীগঞ্জে প্রায় ২৫ বিঘা। যার আনুমানিক মূল্য ৪০০ কোটি টাকা। কিন্তু সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় কর্মচারী ও সাব রেজিস্ট্রার ইদ্রিস খানের পক্ষ্যে ৭ বিঘা জমির বিবরণী দুদককে দেন।

কয়েক’শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক ময়মনসিংহ ডিএস কামীল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. ইদ্রিস খান শুধু তার জন্মস্থান পঞ্চগড়ের সম্পদের তথ্যই লুকাননি, তিনি ময়মনসিংহেও নামে বেনামে অনেক জমি ও ফ্ল্যাটের তথ্য গোপন করার জন্য দায়িত্বশীল কর্তাদের কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে ভুল রিপোর্ট দিয়েছেন। তার কথিত কলগার্ল একই মাদ্রাসার শিক্ষিকা তাসলিমার নামে ময়মনসিংহ শহরে গাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন তার স্ত্রী।

জানা যায়, ইদ্রিস খান ময়মনসিংহের আন্ডারগ্রাউন্ড জগতের মাফিয়া। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ময়মনসিংহ ডিএস কামীল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্বে থেকে বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। এছাড়াও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বিক্রি, মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফরম ফি আদায়, এমপিও বানিজ্য, ময়মনসিংহের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগে অবৈধ তদবির, শহরের মাসকান্দা এলাকায় শতাব্দী নামের আবাসনে মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন অনিয়মে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া, চরপাড়া টাওয়ারে মালামাল কিনার নামে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়া, ময়মনসিংহ বিভাগের মাদ্রাসাগুলোর বিল্ডিং নির্মান করে দেয়া নামে প্রতিটি মাদ্রাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা করে নেয়ার মতো অপকর্মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রেকর্ড সুত্রে জানা যায়, তার মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষিকা হালিমার কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকুরী দিয়েছেন। সেই সাথে তাকে চাকুরী দেয়ার পর তাকে অবৈধ সম্পর্কের প্রস্তাবও দেন শিক্ষিকা হালিমাকে। অপরদিকে শিক্ষিকা সুফিয়াকে বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষিকাকে শাসিয়ে ইদ্রিস খান তাকে জিম্মি করে ও অবৈধ সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এসবের রেকর্ড পরবর্তী সংবাদে প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকাশর বডবাড়িতে বিলাশবহুল বাড়ি নির্মান করেছেন, তার রয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মুল্যের একটি প্রাইভেটকার।