মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে বান কি মুন

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি হেইন। বুধবার বিকাল সোয়া চারটার হেলিকপ্টারযোগে তাঁরা উখিয়ার কুতুপালং শরণাথী শিবিরে পৌঁছান।
কুতুপালং -২০ ক্যাম্প থেকে উভয়ে কুতুপালং মেগা ১৭ নং ক্যাম্পে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের রিফুউজি কোঅর্ডিনেশন সেন্টারে আসেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহীদুল হক, দূর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শাহ কামাল সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন বিদেশী ভিভিআইপিদের সফর সঙ্গী ছিলেন। ক্যাম্প-১৭ এ রিফুউজি কোঅর্ডিনেশন সেন্টার প্রাঙ্গণে অথিতিরা তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব পররাষ্ট্র মন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব, দূর্যোগ ও ত্রাণ সচিব সহ সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যানদের সাথে বৈঠক করেন।

বৈঠকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী সহ সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী।

বৈঠকে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ড. হিলদা সি হেইন রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা হোস্ট কমিউনিটির লোকজনের জীবন মান ও তাদের সাথে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কের ব্যাপারে অবগত হন। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে ফেরত পাঠানো এবং বর্তমানে চলমান বর্ষাকালে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সমূহ দূর্যোগ থেকে রক্ষা করা, উভয়ের মধ্য সুসম্পর্ক বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বল প্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বান কি মুন বলেন, এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয়দের সাথে একাধিক কর্মসূচি বাতিল করেন জাতিসংঘের সাবেক এ মহাসচিব। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ড. হিলদা সি হেইন ও বান কি মুন আলাদা আলাদা হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন।