মুখোশধারী মাওলানা লেবাসের অন্তরালে ইদ্রিস খানের আসল চেহারা ও তার যত অপকর্ম

ময়মনসিংহ ডিএস কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ইদ্রীস খান। জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে নামের আগে বসিয়েছেন ডক্টরেট উপাধি। এরকম একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দুদকের অনুসন্ধানে ইদ্রিস খানের ৩০০ কোটি টাকার সম্পদ লুকিয়ে সরকারকে কর ফাঁকি দেয়া সহ তার নামের আগে ভূয়া ডক্টরেট উপাধির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভূয়া ডক্টরেট ইদ্রিস খানের বিভিন্ন প্রকার কুকর্ম একের পর এক ফাঁস হচ্ছে।

জানা যায়, ইদ্রিস খান ময়মনসিংহ প্রতিদিন নামক একটি পত্রিকার মালিক ছিলেন। তার সম্পাদনা ও প্রকাশনায়  ‘ ‘ময়মনসিংহ প্রতিদিন’ নামক নামক পত্রিকাটি প্রকাশ হতো সেখানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সম্মানী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সম্মানী ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইলিং করা হতো এবং মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো। টাকা পাওয়ার পর কুরুচিপূর্ণ সংবাদগুলো প্রত্যাহার করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতো।

সরে যমীনে দেখা যায়, ইদ্রিস খান ময়মনসিংহের স্বনামধন্য স্বদেশ হাসতাপাল নিয়ে  কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করে। ০২ আগস্ট ২০১৮ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ময়মনসিংহ প্রতিদিন নামক পত্রিকায়, ময়মনসিংহের ডিবির এস আই আকরাম হোসেনকে নিয়ে ” ডিবি পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য” নামক শিরোনামে কুরুচিপূর্ণ বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

ডিবির এই আই আকরামকে নিয়ে বানোয়াট খবর প্রকাশ
ডিবির এস আই আকরামকে নিয়ে ইদ্রিস খানের বানোয়াট খবর

এছাড়াও ময়মনসিংহের হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারের জেলা সমন্বয়কারী সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূমকে নিয়ে দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকায় গত ০৩ জুন ২০১৬ ইং তারিখে প্রকাশিত ‘ বিডিপ্রেস২৪ পাঠক বাড়াতে ভিন্ন কৌশল ’ ০৪ জুন ২০১৬ ইং তারিখে বিডিপ্রেস ২৪ এর পরিচালক কাইয়ুমের বিরুদ্ধে কোতােয়ালী থানায় অভিযােগ , ০৬ জুন ২০১৬ ইং তারিখে ময়মনসিংহে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানাের দায়ে আব্দুল কাইয়ুমসহ আরাে ৩ জনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা ‘ , ০৭ জুন ২০১৬ ইং তারিখে ‘ নাম সর্বস্ব সাংবাদিকতার আড়ালে ময়মনসিংহে আব্দুল কাইয়ুমের ফেসবুকে সরকার বিরােধী উস্কানি শিরােনামে এই সকল কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করে ইদ্রিস খান এবং পরবর্তীতে ‘ সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূমকে জড়িয়ে সকল সংবাদ প্রত্যাহার’ নামক শিরোনামে তা প্রত্যাহার করে নেয়। পত্রিকার মালিক ইদ্রিস খানের  চাঁদাবাজির মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় দৈনিকটি বন্ধ হয়ে যায় পরবর্তীতে।

সাংবাদিক কাইয়ূমকে নিয়ে ইদ্রিস মিথ্যা সংবাদ প্রচারের সেই পত্রিকাগুলোঃ 

কাইয়ূমকে নিয়ে বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ ইদ্রিস খানের এবং পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে প্রত্যাহার করে
সরকার বিরোধী অভিযোগে কাইয়ূমকে ফাঁসানোর চেষ্টা ইদ্রিস খানের এবং পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে তা প্রত্যাহার করে
কাইয়ূমকে নিয়ে ইদ্রিসের ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত বানোয়াট সংবাদ
কাইয়ূমকে নিয়ে ইদ্রিসের ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত বানোয়াট সংবাদ
কাইয়ূমকে নিয়ে ইদ্রিসের ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত বানোয়াট সংবাদ
কাইয়ূমকে নিয়ে ইদ্রিসের ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত বানোয়াট সংবাদ
মিথ্যে, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের জন্যে ক্ষমা চেয়ে কায়ূমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সমস্ত সংবাদ ভুল বলে স্বীকার করে ইদ্রিস খান
মিথ্যে, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের জন্যে ক্ষমা চেয়ে কায়ূমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সমস্ত সংবাদ ভুল বলে স্বীকার করে ইদ্রিস খান

উল্লেখ্য যে, গত ১১ই মে (শনিবার) বিকেল ৩ টার দিকে প্রভাবশালী ইদ্রিস খানের মৌখিক অভিযোগে ময়মনসিংহের আলিয়া মাদ্রাসা রোড হতে কাইয়ূমকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল (ডিবি)। প্রাথমিকভাবে তাকে ডলার ব্যবসায়ী বলে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ, কিন্তু ডলার ব্যবসার সাথে আব্দুল কাইয়ূমের কোনোপ্রকার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ডিবি কার্যালয়ে তাকে ২দিন আটক রাখার পর ১৩ ই মে (সোমবার) তার বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানায় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ একটি মামলা দায়ের করেন ইদ্রীস খান।

মামলায় সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার বানোয়াট, মিথ্যে ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দেখানো হয়। বাস্তবে যার কোনো সত্যতা নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশ হতেই এমনটি করেন তিনি। ক্ষমতাধর ইদ্রীস খান মোমেনশাহী ডি এস কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও এমপি জামাতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নবার একাধিক অনলাইন পত্রিকায় দুর্নীতি, জালিয়াতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ তার বিভিন্ন কুকর্মের নিউজ ছাপা হয়। কে বা কারা সেইসব নিউজ প্রচার করেছে তা সম্পর্কে ইদ্রীছ খান জ্ঞাত না থাকায় ব্যক্তিগত আক্রোশ কে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূমকে ফাঁসিয়ে দেয় ও দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

মামলার এজাহারে কাইয়ূমকে ব্ল্যাকমেইলার, হ্যাকার, শিবির কর্মীসহ আরো বিভিন্ন প্রকার বানোয়াট ভিত্তিহীন মিথ্যে অভিযোগ দেখানো হয়। উল্লেখ্য যে, কিছুদিন আগে ইদ্রীস খান ”ভূয়া পেইজকারীদের ধরিয়ে দিলে আকর্ষণীয় পুরুষ্কার” নামক শিরোনামে ‘বার্তা বাংলাদেশ’ নামক তার নিজস্ব অনলাইন পত্রিকায় একটি নিউজ প্রকাশ করে। তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে সেখানে ব্ল্যাকমেইলারের তথ্য সম্বলিত কিছু নাম্বার, নিউজপেপার, ও ফেসবুক পেইজের নাম উল্লেখ করেন। যার সাথে সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূমের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই। 

এদিকে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূম গ্রেফতারের খবর বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচিত খবরে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকা/টিভি চ্যানেল আল জাজিরাসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যম। তার পাশাপাশি গুরুত্বসহকারে সেই সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে দেশি-বিদেশীসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। এছাড়াও বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলায় দুজন লেখক গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। আব্দুল কাইয়ূম গ্রেফতারের প্রতিবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার অধিকার, এশিয়ান ফোরামসহ বেশ কিছু সংস্থা।