মোদির জন্য আধঘণ্টা আকাশে ঘুরলেন মমতা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফ্লাইটের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানকে প্রায় আধঘণ্টা বাগডোগরার আকাশে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। গতকাল বুধবার এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে মমতা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একজন ভিআইপিকে নিরাপত্তা দেয়া হোক, সমস্যা নেই। কিন্তু, তার জন্য সাধারণ মানুষের কেন অসুবিধা হবে? কারণ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরো যে প্রায় দেড়শো যাত্রী এ দিন বিমানে ছিলেন সকলেরই গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে বিশেষ বিমান বাগডোগরা ছাড়ে দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ইন্ডিগোর যে বিমানে করে যাচ্ছিলেন সেটি বাগডোগরার আকাশে পৌঁছায় তিনটার সময়। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর বিমান ছেড়ে যাওয়ার আরো ১৭ মিনিট পরে। কিন্তু তখনো ইন্ডিগোর পাইলট বিমানবন্দরে নামতে চাইলে তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। বিমানটির বাগডোগরায় নামার নির্ধারিত সময় ছিল ৩টা ৫ মিনিটে। কিন্তু আকাশে চক্কর কেটে সেটি অবতরণ করে ৩টা ২৫ মিনিটে।

ওই বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিমান ছাড়ার সময়ে আরো দু’টি বিমান নামার জন্য বাগডোগরার আকাশে চলে এসেছিল। এমনকি, আরো দু’টি বিমান বাগডোগরা থেকে ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিমান আকাশে উড়ে যাওয়ার পরে আগে চলে আসা দু’টি বিমানকে নামিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দরে অপেক্ষমান দু’টি বিমানকে ছাড়া হয়। তারপরে ইন্ডিগোর বিমানকে নামার অনুমতি দেয়া হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, ইন্ডিগোর সেই ফ্লাইটে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এটা জানলে হয়তো বিমানটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নামিয়ে আনা হতো।

দেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে বিশেষ ছাড় দেয়ার নিয়ম রয়েছে। মাঝআকাশে থাকাকালীন এই তিনটি বিমানের থেকে উপর-নীচে অন্য বিমানের দূরত্ব ন্যূনতম দুই হাজার ফুট রাখা হয়। সাধারণভাবে আকাশে দুই বিমানের মাঝে সেই দূরত্ব থাকে দুই হাজার ফুট। তবে, কোনও বিমানবন্দরে ওঠা-নামার ক্ষেত্রে আলাদা কোনো অগ্রাধিকার দেয়ার নিয়ম নেই। শুধু দেখা হয়, ওই তিনটি ক্ষেত্রে বিমান ওঠা-নামার সময়ে যাতে কোনো দেরি না হয়। এই নিয়ম অসামরিক বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে।

বাগডোগরা বিমানবন্দর বিমানবাহিনীর অধীনস্থ। সেখানকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) নিয়ন্ত্রণ করে বিমানবাহিনী। এ দিন বাগডোগরা থেকে বিমানবাহিনীর এক অফিসার জানান, যাত্রিবাহী বিমান আগে এলে-আগে নামতে পারবে ভিত্তিতে অগ্রাধিকার পাবে। এমনকি, সে রকম বিমানে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মতো ভিআইপি থাকলেও। তাঁর দাবি, নিয়ম মেনেই নামানো হয়েছে ইন্ডিগোর বিমানকে।

বিষয়টির উল্লেখ করে এক সভায় মমতা ব্যানার্জি বলেন, আরো চল্লিশ মিনিট আগে আমরা আসতে পারতাম। কিন্তু, বাবু প্রধানমন্ত্রী, বড় নেতা। তিনি যতক্ষণ শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা না পৌঁছেছেন ততক্ষণ আমাদের প্লেন আটকেছিল আকাশে। বাগডোগরার কাছে এসে, যখন পাঁচ মিনিটের মধ্যে যখন পৌঁছানোর কথা, তখন পাইলট ঘোষণা করলেন, ভিআইপি মুভমেন্টের জন্য বাগডোগরা বিমানবন্দর বন্ধ আছে। আরো চল্লিশ মিনিট আমরা বসে থাকলাম বিমানে।

মমতার আরো বলেন, আমি কারো নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলি না। তাকে যত ইচ্ছে সিকিউরিটি দেয়া হোক, তা নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষের যাতে হয়রানি না হয়, এটা দেখার দরকার। আপনার যত ইচ্ছে সিকিউরিটি নিন, আমরা চাই যা আছে, তার থেকেও আপনার সিকিউরিটি বাড়ুক। ওই সিকিউরিটি নিয়ে আপনি ঘোরাফেরা করুন। কারণ মানুষের সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগ নেই। কিন্তু আপনাদের একটি মিটিংকে কেন্দ্র করে রাস্তা বন্ধ, আকাশ বন্ধ, সব পরিষেবা বন্ধ- এটা ঠিক নয়।’’