ময়মনসিংহে গৃহবধূকে কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, গ্রেফতার ৩

ময়মনসিংহে যৌতুকের দাবিতে কেরোসিন ঢেলে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শাশুড়ি ও দেবরসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

এলাকাবাসী জানান, সাত মাস আগে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের শরীফ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পাশের কুমারুলি গ্রামের শিরীন আক্তারের। বিয়ে পর থেকে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই তাকে মারধর করা হয়। একই দাবিতে গত পহেলা জুলাই রাতে তাকে মারধরের পর ঘরের দরজা বন্ধ করে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যা চেষ্টা চালায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। টের পেয়ে প্রতিবেশীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। দগ্ধ গৃহবধূকে হাসপাতালে না নিয়ে ঘরে আটকে রেখে রেখে হোমিও চিকিৎসা দেয়া হয়। খবর পেয়ে ৫ জুন গৃহবধূর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

নির্যাতিতা গৃহবধূ বলেন, শাশুড়ি ধরে রেখেছে আমার স্বামী আমার শরীরে আগুন লাগিয়েছে।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার  ডা. রাজিব কর্মকার বলেন, শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ফলে বাম দিকের একাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া আরো শরীরের অন্যান্য অংশে পুড়ে গেছে।

এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজী বলেন, পুলিশ সুপার ঘটনাটি শুনা মাত্রই আসছেন। আহতের চিকিৎসার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার উনি সব করেছেন।

এ ঘটনায় শাশুড়ি, দেবর ও স্থানীয় হোমিও চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পলাতক রয়েছেন স্বামী ও শ্বশুর। সূত্রঃ সময় টিভি অনলাইন