‘রোজিনার শরীর ফুলে গেছে, ঢামেকের বার্ন ইউনিটে হস্তান্তর’

রাজধানীর বনানীতে বাসচাপায় পা হারানো রোজিনাকে (১৮) পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বুধবার দুপুর ১টায় পঙ্গু হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করা হয়েছে। তাকে ঢামেক বার্ন ইউনিটের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট-এইচডিইউতে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকরা ধারণা করছিলেন- রোজিনার শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার কিডনি জটিলতা বা অন্য কোনো সমস্যার আশঙ্কা করছিলেন তারা। এসব কারণেই তাকে ঢামেক বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করেছেন তারা।

তিনি বলেন, রোজিনা এখানে আসার পর মোটামুটি ভালো আছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করার পর তার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তাছাড়া পরবর্তীতে রোজিনার প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। তবে এখন তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ করে তোলাটাই প্রধান কাজ।

পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার রায় বলেন, রোজিনার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। সে কারণেই আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছি।

রোজিনার বাবা রসুল মিয়া বলেন, রোজিনার শরীর ফুলে গেছে। তার অবস্থা ভালো নেই। এ কারণে বুধবার দুপুরে পঙ্গু হাসপাতালের ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল রাত ৯টায় বনানীতে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস রোজিনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে তার পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে রোজিনার ডান পায়ে গুরুতর জখম হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই বাসের চালক শফিকুল ইসলামকে (৩২) আটক করে পুলিশ। তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোজিনা নিকেতনের ১২ নম্বর সড়কে সাংবাদিক ইশতিয়াক রেজার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ওইদিন এক বান্ধবীর বাসা থেকে ফেরার পথে তিনি এ দুর্ঘটনার শিকার হয়।