সাংবাদিক কাইয়ূমকে নিয়ে একাধিকবার বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে ক্ষমা চেয়েছিলো ইদ্রিস খান

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহঃ  ময়মনসিংহ শহরের ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ইদ্রীস খান সাংবাদিক ও মানবাধীকার কর্মী আব্দুল কাইয়ূমকে নিয়ে একাধিক বার ‘ময়মনসিংহ প্রতিদিন’ নামক তার নিজস্ব একটি দৈনিক পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ভূয়া সংবাদ প্রকাশ করে তাকে সম্মানহানী ও ফাসানোর চেষ্টা করে বহুবার। এতে আব্দুল কাইয়ূম আইনের দারস্থ হলে প্রচার করা অভিযুক্ত  সংবাদের স্বপক্ষে ইদ্রিস খান কোনোপ্রকার যুক্তি দেখাতে না পারায় সে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়। এবং পরবর্তীতে তার নিজস্ব দৈনিক পত্রিকা ‘ ময়মনসিংহ প্রতিদিন’ নামক পত্রিকায় ‘ সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূমকে জড়িয়ে প্রকাশিত সকল সংবাদ প্রত্যাহার’ নামক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলোঃ-

দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকায় গত ০৩ জুন ২০১৬ ইং তারিখে । প্রকাশিত ‘ বিডিপ্রেস২৪ পাঠক বাড়াতে ভিন্ন কৌশল ’ ০৪ জুন ২০১৬ ইং তারিখে বিডিপ্রেস ২৪ এর পরিচালক কাইয়ুমের বিরুদ্ধে কোতােয়ালী থানায় অভিযােগ , ০৬ জুন ২০১৬ ইং তারিখে ময়মনসিংহে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানাের দায়ে আব্দুল কাইয়ুমসহ আরাে ৩ জনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা ‘ , ০৭ জুন ২০১৬ ইং তারিখে ‘ নাম সর্বস্ব সাংবাদিকতার আড়ালে ময়মনসিংহে আব্দুল কাইয়ুমের ফেসবুকে সরকার বিরােধী উস্কানি শিরােনামে সাংবাদিক মাে : আব্দুল কাইয়ুমকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরগুলাে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিবেশিত না হওয়ায় এবং যাচাই বাচাই না করে প্রকাশিত হওয়ায় সবগুলাে প্রতিবেদন প্রত্যাহার করা হলাে

১১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে 'ময়মনসিংহ প্রতিদিন' নামক পত্রিকায় প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন
১১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে ‘ময়মনসিংহ প্রতিদিন’ নামক পত্রিকায় প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন

উল্লেখ্য যে, গত ১১ই মে (শনিবার) বিকেল ৩ টার দিকে প্রভাবশালী ইদ্রিস খানের মৌখিক অভিযোগে ময়মনসিংহের আলিয়া মাদ্রাসা রোড হতে কাইয়ূমকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল (ডিবি)। প্রাথমিকভাবে তাকে ডলার ব্যবসায়ী বলে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ, কিন্তু ডলার ব্যবসার সাথে আব্দুল কাইয়ূমের কোনোপ্রকার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ডিবি কার্যালয়ে তাকে ২দিন আটক রাখার পর ১৩ ই মে (সোমবার) তার বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানায় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ একটি মামলা দায়ের করেন ইদ্রীস খান।

মামলায় সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার বানোয়াট, মিথ্যে ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দেখানো হয়। বাস্তবে যার কোনো সত্যতা নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশ হতেই এমনটি করেন তিনি। ক্ষমতাধর ইদ্রীস খান মোমেনশাহী ডি এস কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও এমপি জামাতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নবার একাধিক অনলাইন পত্রিকায় দুর্নীতি, জালিয়াতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ তার বিভিন্ন কুকর্মের নিউজ ছাপা হয়। কে বা কারা সেইসব নিউজ প্রচার করেছে তা সম্পর্কে ইদ্রীছ খান জ্ঞাত না থাকায় ব্যক্তিগত আক্রোশ কে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূমকে ফাঁসিয়ে দেয় ও দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

মামলার এজাহারে কাইয়ূমকে ব্ল্যাকমেইলার, হ্যাকার, শিবির কর্মীসহ আরো বিভিন্ন প্রকার বানোয়াট ভিত্তিহীন মিথ্যে অভিযোগ দেখানো হয়। উল্লেখ্য যে, কিছুদিন আগে ইদ্রীস খান ”ভূয়া পেইজকারীদের ধরিয়ে দিলে আকর্ষণীয় পুরুষ্কার” নামক শিরোনামে ‘বার্তা বাংলাদেশ’ নামক তার নিজস্ব অনলাইন পত্রিকায় একটি নিউজ প্রকাশ করে। তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে সেখানে ব্ল্যাকমেইলারের তথ্য সম্বলিত কিছু নাম্বার, নিউজপেপার, ও ফেসবুক পেইজের নাম উল্লেখ করেন। যার সাথে সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূমের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই। 

ইদ্রীস খান তার পূর্বে প্রকাশিত সংবাদের ন্যায় মিথ্যে, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দেখানো হয়। বাস্তবে যার কোনো সত্যতা নেই।

বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের কারণে ক্ষমা চেয়ে ইদ্রিস খানের ভুল স্বীকার