‘স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানান’

নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানানোর আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারাই জাতির সূর্য সন্তান আর স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস নব প্রজন্মকে জানাতে হবে- তবেই তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপস্থিতিতে যুগ যুগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার ইতিহাসের ধারণ ও লালন করে গৌরবময় স্বাধীনতাকে সমুজ্জ্বল রাখতে পারবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ।

শনিবার ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে স্বাধীন বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় ফাউন্ডেশন আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দেশ বরেণ্য কৃতি সন্তান মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, শিল্পী ও গুণিজনদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এ আহ্বান জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের সাবেক চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মহাসচিব আলাউদ্দিন মিয়া, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, স্বাধীন বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এ বি এম সুলতান আহমেদ।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ, শাজাহান খান, নাট্য সংগঠক রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক ইনামুল হক, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীত শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, রায়ান বিন মুরাদকে সন্মাননা দেওয়া হয়।

স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক এবং অবিচ্ছেদ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপসহীন নেতা। দীর্ঘ ২৩ বছর অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে বারংবার কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নির্বাসিত হয়েছেন, তবুও মাথা নত করেননি। জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছিলেন বাংলার স্বাধীনতা। বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছেন বিশ্ব সেরা অনন্য সংবিধান। কারও দান কিংবা অনুকম্পা নয়, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলার এই স্বাধীনতা। জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠাই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূল দর্শন।

ড. শিরীন শারমিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন তথা ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তার চৌকস নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিন্মমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে পরিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ তথা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অত্যন্ত আন্তরিক। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে যথাযথ পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।