‘কাম না মিললে, খাওনও জুটে না, পেডে তো লকডাউন বুঝে না’

এপ্রিল ১৯ ২০২১, ০৮:১৮

পেডে (পেটে) তো আর লকডাউন বুঝে না। কামও (কাজ) মিলে না তাই খাওনও (খাবার) জুটে না। কাম (কাজ) না করলে খামু (খাবো) কি? এসব খেটে খাওয়া দিনমজুরদের কথা। যারা দিন আনে দিন খায়। যাদের প্রতিদিনকার কাজই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু লকডাউনে একটি কঠিন সময় পার করছেন তারা।

প্রতিদিনের মতো লকডাউনেও কাক ডাকা ভোরে ঘুম ভাঙে তাদের। জেলা শহরের আখড়াবাজার মোড়ে রাস্তার পাশে দল বেঁধে শতশত দিনমজুর বসে থাকেন কাজের সন্ধানে। কেও তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই সবাই তাকে ঘিরে ধরে। তারা মনে করেন, হয়তো সেই ব্যক্তিটি তাদের জন্য কাজ নিয়ে এসেছেন। যখন ভাবনার সঙ্গে মিল খুঁজে পান না, তখন আবারও বিমর্ষ চিত্তে বসে পরেন।

চাঁন মিয়া,আওয়াল,আব্দুল হাই ও সালামের মত অনেকেই আছেন,যারা কাজ না পেলে পরিবারের সদস্যদের কথা ভেবে ভেবে অস্থির থাকেন। প্রতিদিন সবাই কাজ পায় না, যাদের সঙ্গে কর্মনিয়োগ দাতার চুক্তিতে মেলে তারাই শুধু কাজ পায়। আর বাকিরা অপেক্ষা শেষে যার যার বাড়ি ফিরে যায়। কখনও খেয়ে না খেয়ে দিন-রাত পার করতে হয়।

করোনা প্রকোপ কমাতে গত বছর টানা ৬৬ দিন চলে লকডাউন। তখনও মানুষ কাজ হারিয়েছে,আয় হারিয়েছে।পরিস্থিতি সামলাতে গত বছর লকডাউনের সময় অনেকেই আগের জমানো টাকা খরচ করেছেন। আবার অনেকে চলেছেন ঋণ করে। সেই অবস্থার ঘোর কাটতে না কাটতেই আবারও দ্বিতীয় দফা লকডাউন। অনেকেরই নুন আনতে পানতা ফুরানোর সময় যাচ্ছে।

আওয়াল মিয়া পঞ্চাশ বছর বয়সেও দিনমজুরের কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘করোনা প্রভাব যখন ছিল না তখন কোনো না কোন কাজ পেতাম। আর কাজ করে প্রতিদিন গড়ে ২০০-৩০০ টাকা পেতাম। কিন্তু এখন কেও কাজও করায় না,আর কাজে নিতেও আসে না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচা মুশকিল।’

জেলা সদরের মারিয়া ইউনিয়নের দিনমজুর চাঁন মিয়া। একান্ন বছর বয়সেও চুক্তিভিত্তিক প্রতিদিন দিনমজুরের কাজ করে যাচ্ছেন। কখনও মাটি কাটা আবার কখনও ইট-বালি মাথায় বহনের কাজ করতেন তিনি। চাঁন মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ভোরে এখানে আসি। কখনও কাজ পাই আবার কখনও পাই না। যিনি নিবেন তার সঙ্গে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বায়নায় কাজ করি। কিন্তু এখন তো একেবারেই কাজ নাই। লকডাউনে আমরা কর্মী বেশি আর কাজ দেওয়ার লোক কম। তাই খুব দুঃশ্চিতায় সময় কাটছে।’

ভয়ঙ্কর মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন চলছে সারাদেশে। এই লকডাউনের সময় আরও বাড়ানো হবে কিনা এসব চিন্তা করেই দিনমজুরদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

এমন পরিস্থিতিতে তারা প্রত্যাশা করছেন, দুযোর্গপূর্ণ সময়ে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে,একমাত্র সরকারি সাহায্য সহযোগিতা বা প্রণোদনাই হতে পারে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, করোনাকালীন এসব খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য সরকার যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রণোদনা কার্যক্রমও প্রস্তুত করা হয়েছে। তাছাড়া আগামীকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কিছু কিছু জায়গায় প্রণোদনা দেওয়া হবে। গতবছরের মত এবছরও ডাটাবেজের মাধ্যমে এসব মানুষদের মোবাইল ফাইনানসিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তাছাড়া কর্মহীন মানুষদের চিহ্নিত করে ঈদ উপলক্ষ্যে ভিজিএফও দেওয়া হবে।

Share Button